নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাইবান্ধার সাঘাটায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। হাট-বাজার, পথঘাট, মাঠ ও পাড়া মহল্লায় দল বেঁধে এসব কুকুরের অবাধ এবং আক্রমণাত্মক বিচরণে লোকজনের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই দিনে উপজেলার ভরতখালীসহ কয়েকটি এলাকায় অন্তত ১০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। বেওয়ারিশ কুকুরের এমন হিংস্র আচরণে এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা জানান, ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকতে হচ্ছে আমাদের। এত কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে সাঘাটা উপজেলার দক্ষিণ উল্যা গ্রামের ইরামনি (৫), আজিমুদ্দিন (৭০), শহীদুল ইসলাম (৫০), গাটু মিয়া (৪৫) খেরু মিয়াস (৬২) ও বোনারপাড়া এলাকায় তিনজনসহ অন্তত ১০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। আহতদের কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও বেশির ভাগ লোকজনকেই গাইবান্ধা কিংবা বগুড়ায় গিয়ে রাবিশ ভ্যাকসিন দিতে করতে হয়েছে। উপজেলার বোনারপাড়া বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, আমাকে কুকুরের কামড় দেওয়ার পর স্থানীয় সরকারিভাবে কোথাও ভ্যাকসিন না পেয়ে গাইবান্ধা সদরে গিয়ে সংগ্রহ করতে হয়েছে। একই কথা জানান, উপজেলার দলদলিয়া গ্রামের বাসিন্দা উপেন্দ্র চন্দ্র।
উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, হাটবাজারের অলি গলি প্রতিদিন দল বেঁধে এসব বেওয়ারিশ কুকুর উপদ্রব করে। মাঝে মধ্যেই বাজারে আসা লোকজনের হামলে পড়ে এসব কুকুর। এ বিষয়ে ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন,
কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি।
সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছর ধরে হাসপাতালটিতে জলাতঙ্ক বা র্যাবিস ভ্যাকসিনের কোনো সরবরাহ নেই। ফলে কুকুরে কামড়ানো রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, “সরকারিভাবে উপজেলা পর্যায়ে র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আগে উপজেলা পরিষদের সমন্বিত ফান্ড থেকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হতো, বর্তমানে সেটিও বন্ধ রয়েছে।”